প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১:০৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষককে ফাঁসানোর চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মামলায় রিপন মজুমদার নামে এক শিক্ষককে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোকে কেন্দ্র করেই প্রধান শিক্ষক পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীর পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। ঘটনার সময় শিক্ষকের এমন কোন আচরণ দেখেননি বলেও জানিয়েছেন উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী। অভিভাবকদেরও দাবি ঘটনাটি পরিকল্পিত।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঘটনাটি নিয়ে দত্তপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মায়া বেগম, অভিভাবক ফখরুদ্দিন শাহীন, নবম শ্রেণীর ছাত্রী তাহরিমা রাবেয়া সিপ্তি, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী তাহিনা ফাতেমা সন্ধি, প্রত্যক্ষদর্শী অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জারিন সুলতানা সোহা ও সাবেক শিক্ষার্থী ফারিহা আক্তার রোমানার সঙ্গে কথা হয়। বিষয়টি নিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিজানুর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল সোবহান ও বাদীর সঙ্গেও কথা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী সোহা বলেন, স্যারের কাছে ব্যাচে আমরা গণিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়ি। ঘটনার দিন সূত্র ভুল হওয়ায় স্যার সবাইকে বেত্রাঘাত করেছেন। তবে কাউকে ব্যাডটাচ করেননি, এমন দৃশ্য চোখেও পড়েনি। স্যারকে ফাঁসানোর জন্য এটি ষড়যন্ত্র মনে হচ্ছে।
সাবেক শিক্ষার্থী রোমানা বলেন, স্যারকে মিথ্যা অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, এটা চায় না। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে শুনেই আমরা আন্দোলন করতে চেয়েছি। ৩ বছর বাসায় এসে স্যার আমাকে পড়িয়েছেন। তিনি অভিভাবকের মতোই আমাদেরকে আগলে রাখতেন।
অভিভাবক ফখরুদ্দিন শাহীন বলেন, রিপন একজন দক্ষ শিক্ষক। আমার দুই মেয়েকেই রাতে বাসায় এসে প্রাইভেট পড়ায়। তার আচরণে কখনো খারাপ কিছু দেখা যায়নি। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হতে পারে। এটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাই।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মায়া বেগম বলেন, রিপন স্যারের কাছে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই প্রাইভেট পড়েন। এটা নিয়েই অন্য শিক্ষকরা তার ওপর ক্ষিপ্ত। এখন সুযোগ পেয়েছে, পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। এছাড়া মেয়ের মাও বলেছেন জোর করে অভিযোগ দেওয়ানো হয়েছে।
রিপন মজুমদারের স্ত্রী নিপা রাণী মজুমদার বলেন, আমার স্বামী নির্দোষ। ১৪ বছর তিনি এখানে শিক্ষকতা করেন। তার নামে কখনো কোন অভিযোগ আসেনি। উনি প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়ান। উনার প্রাইভেট বেশি হওয়ায় হিংসা করেই তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষকও স্কুলে প্রাইভেট পড়ান, এর সঙ্গে প্রধান শিক্ষকও জড়িত থাকতে পারেন।
মুঠোফোনে অভিযোগের ঘটনা জানতে চাইলে মামলার বাদী এড়িয়ে যান এবং প্রধান শিক্ষক জানেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
মুঠোফোনে প্রাইভেট নিয়ে দ্বন্ধের বা হিংসার বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আব্দুল সোবহান বলেন, অভিযোগ দিয়েছে ছাত্রীর মা। এখানে আমাদের কারো কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পিত ঘটনা কি না এমন প্রশ্নে তিনি সদুত্তরও দিতে পারেননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান বলেন, মামলার প্রেক্ষিতে শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি কারাগারে আছেন। ঘটনাটি তদন্ত চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঠিক কারণ উঠে আসবে। ঘটনার সময় উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলবো।
প্রসঙ্গত, ২২ মে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে ৩য় তলায় শিক্ষক রিপন অষ্টম শ্রেণির ১০-১২ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ান। ওইসময় পড়া না পারায় তাদেরকে বেত্রঘাত করেন। একইসময় একছাত্রীকে খারাপ অঙ্গভঙ্গি ও শরীরে স্পর্শ করার ঘটনায় ২৪ মে চন্দ্রগঞ্জ থানায় তার মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় একইদিন শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রতিষ্ঠাতা ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সাইফুল ইসলাম জুয়েল, সম্পাদক ও প্রকাশক : সেলিনা আক্তার লুভনা
নির্বাহী সম্পাদক: সাজ্জাদুর রহমান ফরহাদ, মোবাইল : ০১৭৬১-৭৩৫৫২৬, ইমেইল : Kalerprotasha@gmail.com